(toc)
মেয়েদের হায়েয বা ঋতু:
মেয়েলোক প্রাপ্ত বয়স্ক হলে প্রতিমাসে স্বাভাবিক নিয়মে গোপন অঙ্গ দিয়ে যে রক্তস্রাব হয়ে থাকে তাকে হায়েয বলে। হায়েয কমপক্ষে তিনদিন তিন রাত্রি আর বেশি হলে দশ দিন দশ রাত্রি পরিমাণ সময় পর্যন্ত থাকে। এর বেশি সময় নিলে এস্তেহাজা রোগ বলে ধরে নিতে হবে।
মেয়েদের নয় বৎসরের আগে সাধারণত হায়েয হয় না। যদি কোন ছোট মেয়ের নয়। বৎসরের কম বয়স হয় আর তার রক্তস্রাব হতে থাকে, তবে তাকে হায়েযের রক্ত বলা যাবে না। এভাবে পঞ্চান্ন বৎসরের পরে সাধারণত হায়েয থাকে না কিন্তু যদি কোন মেয়ে লোকের পঞ্চান্ন বৎসরের পরেও রক্তস্রাব দেখা দেয় এবং রক্তের রং লাল, কালো হয় তবে উহাকে হায়েযই বলতে হবে। আর যদি হলদে মেটে বা সবুজ রংয়ের হয় তবে হায়েয হিসেবে গণ্য হবে না।
যে মেয়েলোকের সব সময় তিন বা চার দিন হায়েয হওয়ার অভ্যাস ছিল, তাহার যদি কোন মাসে রক্ত বেশি আসে কিন্তু দশ দিনের বেশি না হয়, তবে সব কয়দিনকেই হায়েয গণ্য করতে হবে। কিন্তু দশ দিন দশ রাতের চেয়ে বেশি হলে পূর্বের যে নিয়ম ছিল। যেমন, তিন কি চারদিন এভাবে হায়েয ধরতে হবে। অতিরিক্ত দিনগুলিকে এস্তেহাজা রোগ হিসেবে ধরতে হবে।
মেয়েলোকের হায়েয-নেফাসের মাসলা ভালভাবে জানা থাকা প্রয়োজন। অনেক মেয়ে আছে লজ্জায় কিছু বলে না এবং কাহারও নিকট কিছু জিজ্ঞাসাও করে না। এতে তাদের অসুবিধায় সৃষ্টি হয়। কোন মাসে কতদিন রক্তস্রাব দেখা দিল তাহা প্রত্যেক স্ত্রীলোকের মনে রাখা উচিত। প্রত্যেক স্ত্রীলোকের উচিত হায়েয-নেফায সংক্রান্ত মাসগুলি কিছু কিছু আয়ত্ব করা।
মেয়েদের হায়েয আল্লাহ পাকের সৃষ্টির একটা ধারাবাহিকতা। এটা আল্লাহ পাকই ভাল জানেন, কেন হায়েযের নিয়ম করেছেন। তবে এতটুকু বোঝা যায় যে, হায়েযের দ্বারা মেয়েদের শরীরের দূষিত রক্ত বের হয়ে যায়।। আর এই হায়েযের দ্বারাই সন্তান উৎপদনে উপযুক্ত হয়ে উঠে। হায়েযের সময় রক্তস্রাব বন্ধ হয়ে পাক পবিত্র হওয়ার পর পরবর্তী রক্তস্রাব শুরু হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়কে তোহর বলে। তোহরের সময় কমপক্ষে পনের দিন। বেশির কোন সীমা নির্ধারণ নাই।
যে সব কাজ হায়েয থাকাকালীন অবস্থায় নিষেধ:
১. হায়েযের সময় কোন ফরয, নফল বা কোন প্রকার নামায পড়া নিষেধ। ২. ফরয রোযা বা নফল রোযা রাখা নিষেধ। ৩. কোরআন তেলাওয়াত করা নিষেধ। কিন্তু কোরআন শরীফ স্পর্শ না করে পড়তে পারবে। ৪. কোরআন শরীফ স্পর্শ করা নিষেধ কিন্তু আলাদা কভার দেওয়া থাকলে তার উপর দিয়ে স্পর্শ করতে পারবে।। পারবে। ৫. মসজিদ, কবরস্থানে যাওয়া নিষেধ। ৬. হায়েয অবস্থায় স্বামী-স্ত্রী সহবাস করা শরীয়ত সম্মতভাবে হারাম। কিন্তু চুমো দেওয়া, কাপড়ের উপর দিয়ে স্ত্রীকে জড়াইয়া ধরা যাইতে পারে। যদি কোন স্বামী ভুল করে হায়েয অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করে বসেও তবে তওবা করতে হবে এবং নির্ধারিত সদকা দান করতে হবে। ৭. হায়েয-নেফাসের কাপড় বা অন্যান্য অনুসাঙ্গিক জিনিস প্রকাশ্য স্থানে রাখা নিষেধ। এমন জায়পায় রাখতে হবে যাহাতে কারও নজরে না পড়ে। হায়েয অবস্থায় নামাযের কাযা করতে হবে না কিন্তু রোযার কাযা করতে হবে।
হায়েয থাকাকালীন অবস্থায় নামায ও রোযা:
বিভিন্ন গ্রন্থে উল্লেখ আছে, একদিন হযরত হাওয়া (আঃ) নামায পড়া অবস্থায় গোপন অঙ্গে রক্ত দেখতে পেয়ে হযরত আদম (আঃ)-এর নিজই জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি নামায আদায় করবেন কিনা। তখন হযরত আদম (আঃ) নিজে কিছু না বলে হযরত জিব্রাইল (আঃ)-এর মাধ্যমে আল্লাহ পাকের নিকট জানতে চাইলেন। আল্লাহ পাক হযরত জিব্রাইল (আঃ)-এর মারফত জানাইয়া দিলেন যে, এই অবস্থায় নামায আদায় করতে হবে না এবং উহার কাযাও আদায় করতে হবে না
আর একদিন রোযা অবস্থায় হযরত হাওয়া (আঃ) পূর্বের অবস্থা দেখলেন এবং হযরত আদম (আঃ)-এর নিকট জিজ্ঞাসা করলেন রোযা রাখবেন কিনা। তখন হযরত আদম (আঃ) চিন্তা করলেন, আল্লাহ পাক যখন নামায নিষেধ করে দিয়েছেন তবে রোযাও নিষেধ করবেন। তখন তিনি হযরত হাওয়া (আঃ)-কে রোযা রাখতে নিষেধ করলেন। যখন হাওয়া (আঃ) হায়েয অবস্থা হতে পবিত্র হলেন, তখন আল্লাহ পাক হযরত জিব্রাইল (আঃ)-এর মাধ্যমে জানাইয়া দিলেন যে, রোযার কাযা আদায় করতে হবে। তখন হযরত আদম (আঃ) আল্লাহ পাকের নিকট প্রার্থনা করলেন। হে আল্লাহ পাক পরোয়ারদেগার। একই বিষয়ে দুই রকম আদেশ হল কেন? তখন আল্লাহ পাক হযরত জিব্রাইল (আঃ)-এর মারফতে জবাব দিলেন যে, নামায আদায় না করতে আমি নিজে হুকুম দিয়েছি আর রোযার হুকুম তুমি দিয়েছ। কাজেই রোযার কাযা আদায় করতে হবে।
কোন কাজগুলি হায়েয অবস্থায় করতে হয়:
হায়েয অবস্থায় প্রত্যেক স্ত্রীলোকের শারীরিক অবস্থা ভাল থাকে না। এই সময় নিয়মিতভাবে চলাফেরা বা চালচলন করলে শরীর ঠিক থাকে এবং স্বাস্থ্যও ভাল থাকে। এই সময় অন্যান্য কাজ করতে পারবে। শুধু ইসলামের নিষিদ্ধ কাজগুলি করতে পারবে না। যেমন, নামায, রোযা, স্বামী-স্ত্রী সহবাস ইত্যাদি কাজগুলো থেকে দূরে থাকতে হবে। হায়েয অবস্থায় সব সময় পরিষ্কার পরিছন্ন থাকতে হয়। হায়েযের সময় বর্তমানে বাজারে পাওয়া যায় সেনেটারী টাওয়েল ব্যবহার করতে হয়। ইহা রোগমুক্ত রাখে। হায়েযের সময় ময়লা এবং পুরাতন কাপড় ব্যবহার করা উচিত নয়। ইহাতে রোগজীবাণু প্রবেশ করতে পারে।
এই সময় বেশি কষ্টের কাজ করা ঠিক নয়। পরিপূর্ণ বিশ্রাম করা একান্ত প্রয়োজন। বেশি ঠাণ্ডা পানি ব্যবহার করা এবং ঠাণ্ডার মধ্যে থাকা বা বরফ জাতীয় কোন কিছু খাওয়া ঠিক না। বেশি রাত পর্যন্ত জেগে থাকা ঠিক নয়। গোসল করার সময় পানি একটু গরম করে নেওয়া ভাল। ভিজা স্যাঁতস্যাঁতে স্থানে বা ঘরের মেঝেতে শোয়া ঠিক নয়। সবসময় খাটে শোয়ার ব্যবস্থা করবে। স্বামী-স্ত্রী সহবাস করা সম্পূর্ণ নিষেধ। অনেক সময় হায়েয অবস্থায় স্বামী-স্ত্রী সহবাস করলে বন্ধ্যা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কারণ তখন নাভী থাকে খুব নরম ও দুর্বল। তবে স্বামী-স্ত্রী এক বিছানায় থাকতে কোন অসুবিধা নাই। এই অবস্থায় দূরে থাকা উচিত এইজন্য যে, স্বামী-স্ত্রী একখানে থেকে শরীর উত্তেজিত হলে স্বামী স্ত্রী সহবাস হয়ে যেতে পারে। কাজেই নিরাপদ দূরত্বে থাকতে পারলে ভাল।
আমি রোসনি জাহান কন্টেন্ট রাইটার অফ সিয়াম হাসান নিউজ লিমিটেড আশা করি আপনাদের এই আর্টিকেলটি অনেক হেল্পফুল হবে