(toc)
যে সকল নারীদেরকে বিবাহ করা হারাম:
আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল (সাঃ) এর নির্দেশ অনুসারে প্রত্যেক মানুষের বিবাহ 'ওনে আবদ্ধ হতে হয়। যাতে তাহার। উভয়ে শান্তি পেতে পারে। পুরুষের জন্যে কোন ধরনের স্ত্রীলোক এবং স্ত্রীলোকের জন্য কোন ধরনের পুরুষ বিবাহ করা যায় তাহাও বলে দিয়েছেন, আবার ইহাও বলে দিয়েছেন, যে কোন ধরনের স্ত্রী পুরুষ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া হারাম। আল্লাহ্ তা'আলা কোরআনে বলে দিয়েছেন, কোন কোন নারীকে পুরুষ
বিয়ে করতে পারবে না। নিচে পূর্ণ বিবরণ দেওয়া হল।
১. দাদী, পর দাদী উপরের দিকে যত যাইবে।
২. আপন মাতা, সৎমাতা, নানী, পরনানী এবং যত উপরে যাইবে।
৩. আপন ঔরসজাত কন্যা, মেয়ের মেয়ে যত নিচে যাবে।
৪. পিতার আপন বোন ফুফু, বৈমাতৃয় বোন, বৈপিত্রীয় বোন।
৫. সহোদরা বোন, বৈমাতৃ বোন, বৈপিতৃয় বোন।
৬. মায়ের আপন বোন খালা, বৈমাতৃয় বোন, বৈপিতৃয় বোন।
৭. আপন ভাইয়ের মেয়ে, বৈমাতৃয় ভাইয়ের মেয়ে, বৈপিতৃয় ভাইয়ের মেয়ে। ভাতিজির মেয়ে ও তাহার মেয়ের যত নিচে যাবে।
৮. আপন বোনের মেয়ে ও বৈমাতৃয় বোনের মেয়ে, বৈপিতৃয় বোনের মেয়ে। ভাগিনীর মেয়ে ও তাহার মেয়ের মেয়ে যতদূর নিচের দিকে যাবে।
৯. দুধ মাতা, তাহার মাতা, ও মাতামহী যত উপরে যাব।
১০. দুধ বোন ও দুধ মায়ের মেয়েগণ। ১১. শ্বাশুড়ী, স্ত্রীর আপন দাদী ও নানীগণ।
১২. স্ত্রীর পূর্ব স্বামীর মেয়ে ও মেয়ের মেয়ে যত নিচে যাবে।
১৩. আপন ঔরসজাত পুত্রের স্ত্রী, পুত্রের পুত্রবধূ যত নিচে যাবে।
১৪. আপন দুই বোনকে একত্রে স্ত্রী হিসেবে রাখা যাবে না। এই চৌদ্দজন হলো মূল। ইহা হইতে উপরে ও নিচের দিকে যতদূর যাইবে ফুফু,খালার কন্যারা ব্যতীত সকলকে বিবাহ করা হারাম।
ইমাম গাজালী (রহঃ) বলেছেন, বিশ প্রকারের স্ত্রীলোকদের বিবাহ করা হারাম। নিচে তাহা উল্লেখ করা হইল।
১. যে স্ত্রীলোক অন্য পুরুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ আছে।
২. ইদ্দত পালনকারী নারী।
৩. মুরতাদ নারী।
৪. মূর্তি পূজক নারী।
৫. আল্লাহ, রাসূল এবং কিয়ামতে আবিশ্বাসী স্ত্রীলোক।
৬. যে নারী শরীয়ত বিরোধী কাজকে ভাল মনে করে। অর্থাৎ যে নারী অপর পুরুষের সাথে অবাধ মেলামেশা করা ও নামায না পড়া। রোযা না রাখা ইত্যাদিতে, বৈধ মনে করে। আর আখিরাতে কোন শাস্তি না পাওয়াকে ঠিক মনে করে।
৭. খ্রিস্টান অথবা ইহুদী স্ত্রীলোক।
৮. স্বাধীন স্ত্রীলোককে মোহরানা আদায় করার শক্তি থাকা সত্ত্বেও দাসীকে বিবাহ করা ।
৯. মনীবের জন্য নিজের ক্রীতদাসকে, বিবাহ করা।
১০. নিকট আত্মীয়তার কারণে যে সকল স্ত্রীলোকগণ পুরুষের জন্য বিবাহ হারাম বলে উল্লেখ আছে। যথা, মাতা, দাদী, নানী কন্যা।
১১. দুধমাতা, দুধভগ্নি।
১২. বিবাহ সূত্রে যে সকল স্ত্রীলোক হারাম হয়েছে, যেমন-স্ত্রীর মাতা, কন্যা, কিংবা পৌত্রী। যে নারী একবার পিতা অথবা পুত্রের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিল
১৩. চারজন স্ত্রী বর্তমান থাকা অবস্থায় পঞ্চম স্ত্রী বিবাহ করা।
১৪. যে নারীর বোন, ফুফু, বা খালাকে পূর্বে বিবাহ করা হয়েছে। এদের কাহারও সাথে সেই নারীকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করা।
১৫. এমন দুইজন নারী যাহাদের একজনকে বিবাহ করলে অপরজন হারাম হয়ে যায়।
১৬. তালাক দেওয়া স্ত্রীকে হিলা দেওয়ার পূর্বে বিবাহ করা।
১৭. যে বিবাহিত ক্রীতদাসীকে তিনবার ক্রয় বিক্রয়ের পর অন্য স্বামী গ্রহণপূর্বক পরিত্যাক্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হবে না।
১৮. স্বামী কর্তৃক নিজের স্ত্রীকে গ্লিনার অপবাদ দেওয়ায় বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর হিল। ছাড়া বিবাহ করা।
১৯. এহরাম বাঁধা অবস্থার স্ত্রীলোককে।
২০. অপ্রাপ্ত বয়ধ ইয়াতিন বালিকাকে বিবাহ করা হারাম।
ইহা ছাড়া চাচাত, মামাত বোন, ফুফাতো বোন, খালাতে বোন, চাচাত ভাইয়ের কন্যা, মামাত ভাই ও'বোনের কন্যা, ফুফাতো ভাই বোনের কন্যা, খালাত ভাই বোনের কন্যা বিবাহ করা যায়। আপন চাচী, আপন মামী, এবং ভাবীকে তালাক গ্রান্ড অথবা বিধবা হলে বিবাহ করা যায়।ইসলাম একটি বাস্তব সম্মত সামগ্রীক জীবন বিধান। ইসলামে হারাম এবং হালালকে আজ পর্যন্ত বৈজ্ঞানিক যুগেও অস্বীকার করতে পারে নাই। কাজেই ইসলামে যে সমস্ত স্ত্রী লোককে বিবাহ করা হারাম করা হয়েছে তাহা বাস্তব সম্মত কাজ।
যে সকল পুরুষের সাথে নারীর বিবাহ বৈধ নয়:
১. নিজের গর্ভজাত সন্তানগণের সাথে। ছেলে, পোতা, পর পোতা, নাতি, নাতির ছেলে যত নিচে যাইবে।
২. নিজে যাহাদের ঔরসজাত সন্তান, তাহাদের সহিত বিবাহ হারাম, যেমন পিতা,দাদা, পরদাদা, নানা, পরনানা যত উপরে যাইবে।
৩. পিতার সন্তানদের সাথে যেমন, ভাই ভাতিজা, ভাতিজার ছেলে, ভাতিজার নাতি যত নিচে যাইবে। আপন বোনের ছেলে, তার ছেলে যতদূর যাবে।
৪. দাদা, দাদী অথবা নানা নানীর সন্তানের সহিত যেমন চাচা, মামা, কিন্তু পিতার চাচাত ভাই, মামাত ভাই, খালাত ভাইদের সাথে বিবাহ বৈধ। ৫. পিতার মৃত্যুর পর মাতা যদি দ্বিতীয় স্বামী গ্রহণ করে তবে মায়ের সেই স্বামীর সহিত। কিন্তু যদি সেই স্বামীর সাথে সঙ্গম করার পূর্বেই মাতার মৃত্যু হয় বা তালাক প্রাপ্ত হয় তবে জায়েয হবে।
৬. আপন মেয়ের স্বামীর সহিত। জামাতার নিকট শ্বশুড়ীর বিবাহ বসা সম্পূর্ণ হারাম। মেয়ের সহিত জামাতার বাসর ঘর না হয়ে থাকলেও জামাতার সহিত শ্বাশুড়ীর বিবাহ হারাম।
৭. সতীনের ছেলের সাথে। ভাসুর বা দেবরের ছেলের সাথে বিবাহ বৈধ।
৮. ফুফু, খালা যে পর্যন্ত ফুফা খালুর বিবাহে আবদ্ধ থাকে ততদিন পর্যন্ত কোন স্ত্রীলোক ফুফা বা খালুর নিকট বিবাহ বসতে পারবে না। কিন্তু তাহাদের মৃত্যু হলে বা তালাক প্রাপ্ত হলে তালাকের ইদ্দতের পর খালু ফুফার সহিত বিবাহ হারাম হবে।
৯. যে পর্যন্ত বোন তার স্বামীর বিবাহে আবদ্ধ থাকে সে পর্যন্ত ভগ্নিপতির নিকট বিবাহ বসা হারাম। কিন্তু বোনের মৃত্যু হলে অথবা বোনকে তালাক দিলে নির্দিষ্ট নিয়মে বিয়ে জায়েয।
১০. জন্মের দিক দিয়ে যে সব লোকের সাথে বিবাহ হারাম, দুধের দিক দিয়া সেইসব লোকদের সাথে বিবাহ হারাম। যেমন, দুধপিতা, দুধ ছেলে, দুধ পোতা, দুধচাচা, মধুময় দুধমামা, দুধভাই, দুধ ভাতিজা, দুধভাগিনা ইত্যাদি সহিত বিবাহ দুরস্ত নাই।
১১. দুধ পুত্র বিবাহেও দুই বোন একত্রে একজনের নিকট বিবাহ বসা হালাল নয়।দেরকে যেমন কোন স্ত্রীলোক পরস্পর দুটি মেয়েকে ছোটকালে দুধ পান করিয়েছে যার ফলে মেয়ে দুইটি দুধ বোন হয়েছে এমন দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করা জায়েজ নাই।
১২. কোন অমুসলমান পুরুষের সাথে মুসলমান মেয়ের এবং মুসলমান পুরুষের সাথে অমুসলমান মেয়ের বিবাহ হালাল নহে।
১৩. তালাক প্রাপ্তা অথবা স্বামী মৃত স্ত্রীলোকের ইদ্দত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্য কোন পুরুষের সহিত তাহার বিবাহ হারাম।
১৪. যে পুরুষের চারজন স্ত্রী বর্তমান আছে তাহার জন্য পঞ্চম স্ত্রী বিবাহ করা হারাম। শরীয়তে মুখবলা আত্মীয়তার কোন মূল্য নাই। আজকাল দেখা যায় ধর্ম ভাই, ধর্ম বাপ, ধর্ম পুত্রের প্রচলন হয়ে গেছে। এদের থেকে পর্দা করতে হবে এবং এদের সাথে বিবাহ বৈধ। পালিত ছেলের তালাক দেওয়া স্ত্রী বিবাহ করা যায়।
আসসালামু আলাইকুম আপনাদের সঙ্গে আমি আছি রাইফুল হাসান, আমি কন্টেন্ট রাইটার ফর সিয়াম হাসান নিউস লিমিটেড, আমাদের আর্টিকেলটা যদি আপনাদের ভালো লাগে তাহলে আমাদের ওয়েবসাইট বারবার ভিজিট করতে পারেন এবং আমাদের সাথে যোগাযোগ করার জন্য আমাদের ওয়েবসাইটের কন্ট্রাকাস অপশনে চলে যেতে পারেন।
আল্লাহ হাফেজ ভালো থাকবেন সকলে থ্যাঙ্ক ইউ ফর ভিজিটিং অফ ওয়েবসাইট।