গর্তের ভিতরে সন্তান থাকে কিভাবে
চার মাস পূর্ণ হলেই গর্ভে সন্তানের ভিতর ওহ বা প্রাণ সঞ্চার হয়। সন্তানের নাভীর সংগে মায়ের ফুলের সংগে পাইপের মত এক ধরনের নাড়ী থাকে। সেই নাড়ী নিয়াই সন্তান আল্লাহ পাকের হুকুমে তার প্রয়োজনীয় খাদ্য পাইতে থাকে এবং সন্তান বড় হতে থাকে। মায়ের শরীরের রক্ত দিয়েই সন্তানের শরীর গঠন হয়। নাড়ীর সাহায্যে মায়ের শরীর হতে খাদ্যরস সন্তানের শরীরে প্রবেশ করে। ইহাতে সন্তান পরিপুষ্ট হয়ে উঠে।
এইভাবে নয় মাস বা দশ মাস সন্তান তার মায়ের গর্তে থাকে।
মায়ের খাদ্যদ্রব্যের সার অংশগুলো শরীরের সাথে মিশে যায় আর অবশিষ্টগুলো
পায়খানা প্রস্রাব হয়ে বের হয়ে যায়। আল্লাহ পাক তাঁর কুদরতের সাহায্যে গর্ভের সন্তানকে মায়ের নাড়ীর সংগে সংযুক্ত করে মায়ের আহার্য দ্রব্যের সার পদার্থগুলো খাওয়ান। ইহ্য আল্লাহ পাকের শ্রেষ্ঠ কুদরতের মধ্যে একটি। ইহা যদি না হতো তবে আল্লাহ পাকের কুদরত কিভাবে প্রকাশ পেত। গর্তথলির মুখ বন্ধ থাকে আর সন্তনের মুখ এক ধরনের বিজল দ্বারা আটকানো থাকে আল্লাহ পাকের ইচ্ছা সন্তানকে আরামে রাখবেন তাই সন্তানকে মুখ দিয়ে কিছু খেতে দেন না নাতীর সাহায্যে খাওয়ায়ে থাকেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ পাক বলেছেন-
هُوَ الَّذِي يُشوِّرُكُمْ فِي الأَرْحَامِ كَيْفَ يَشَاءُ *
উচ্চারণঃ হুয়াল্লাযী ইউসাব্বিরুকুম ফী আরহামি কাইফা ইয়াশাউ। অনুবাদ: ধন্য সেই আল্লাহ পাক যিনি মায়ের গর্তে যেমনি ইচ্ছা তেমনি তোমাদিগকে পয়দা করেন, তাঁর শক্তির সীমা নাই।
গর্ভে সন্তানের শরীর গঠন হয় কিভাবে
আল্লাহ পাকের ইচ্ছায় স্বামী এবং স্ত্রীর মিলনে তাহাদের বীর্য গর্তথলির মধ্যে প্রবেশ
করে ভাসতে থাকে। চল্লিশ দিন পর্যন্ত এইভাবে ধাতু গর্তথলির মধ্যে ভাসতে থাকে। তারপর একটি রক্তপিও তৈরি হয় এবং আশি দিনের মধ্যে উক্ত রক্ত-পিও মাংসপিণ্ডে পরিণত হয় এবং শরীরের আকার হতে থাকে। চারমাস পর ঐ শরীরে প্রাণের সৃষ্টি হয়। পিতার বীর্য সন্তানের হাটু, রগ, মনিমজ্জা, এবং মাতার বীর্য রক্ত, মাংস, চামড়া ও লোম তৈরি হয়। এরপর আল্লাহ পাক তার নিজস্ব কুদরতে রূহ বা প্রাণ, হায়াত, মউত, রিখিক, সুখ দুঃখ, বলশক্তি, ধন-দৌলত দান করে মানুষ নামে একটা জীব তৈরি করেন। তারপর সময়মত দুনিয়াতে আগমন করে।
গর্ভবতী নারীর কর্তব্য কাজ গর্ভবর্তী স্ত্রীলোকের চলাফেরায় অত্যন্ত সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। উঁচুনিচু
স্থানে উঠানামা করতে সাবধান থাকতে হয়। পেটে যাতে বেশি নাড়াচাড়া না পড়ে সে দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। পানির কলস ও ভারী জিনিস উঠানামা করানো ঠিক নয়। বোশ পরিশ্রম করা ঠিক নয়। বেশিক্ষণ এক জায়গায় বসে থাকা উচিত নয় তাহাতে পেটে চাপ লাগতে পারে। আর পেটে চাল লাগলে সন্তানের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আবার একদম অলসভাবে বসে থাকা উচিত নয়। সুগন্ধি দ্রব্য ব্যবহার করা ঠিক নয়। ময়লা ও স্যাতস্যাঁতে জয়গায় যাবে না। খুব সকালে, ঠিক দুপুরে এবং ঠিক সন্ধ্যার সময় পায়খানা বা পুকুর ঘাটে যাবে না। সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে থাকবে। মোটামুটি চার মাস থেকে সাত মাস পর্যন্ত খুব সাবধানে থাকতে হবে। নয় মাসের সময় কোন সুগন্ধি ব্যবহার করবে না। এই সময় সুগন্ধি দ্রব্য ব্যবহার করলে সন্তান প্রসবের সময় কষ্ট ভোগ করতে হয়। গর্ভবতী নারী সবসময় সৎচিন্তা, সৎকাজ, সদালাপ ও ধর্মচর্চা করতে হবে। নামায রোযা পালন করতে হবে। সবসময় পর্দা-পুখিদা মত থাকতে হবে। সবসময় আল্লাহ পাকের জিকির এবং নবী রাসূলদের জীবনী আলোচনা করতে হবে। গল্প উপন্যাস বা চরিত্র বিধ্বংসী বইপত্র পড়া উচিত নয়। কারণ গর্ভকালীন সময়ে গর্ভবর্তী যেভাবে চলাফেরা করবে তার গর্ভের সন্তানের স্বভাব সেই রকম হবে। সবসময় হালাল দ্রব্য খাওয়ার চেষ্টা করবে। কারণ হালাল বস্তু খাইলে সেই উপদান মায়ের শরীরের সংগে মিশে সন্তানের খাদ্য হিসাবে শরীরে আসে ফলে সন্তান হালাল খাদ্য পায় যার দরুন সন্তানের স্বভাব ভাল হয়। গর্ভবতী নারী নির্লজ্জ; বর্লজ্জ, বেহায়া, তামাশাগীরত ঝগড়াটে, হিংসুক চোকলখোর হবে না। যে গর্ভবর্তী মহিলা চাচাত ভাই, দেবর, মামাত ভাই, ভগ্নিপতি বা পাড়াপ্রতিবেশী পরপুরুষের সাথে নির্লজ্জভাবে চলাফেরা করে, শরীয়তের বরখেলাপ করে তাহার গর্ভের সন্তান নির্লজ্জ হতে বাধ্য। মায়ের সম্পূর্ণ গুণই সন্তান পাবে। কাজেই গর্ভবতী স্ত্রীলোকের এই উপদেশগুলো মেনে চলা উচিত।
সন্তান প্রসবের লক্ষণসমূহ
সাধারণত দেখা যায় সন্তান নয়মাস বা দশমাস মায়ের গর্ভে অবস্থান করার পর ভূমিষ্ঠ হয়। এই নিয়ম সবার ক্ষেত্রে এক হয় না। অনেকের আটমাসেও সন্তান প্রসব হয়ে থাকে। আবার এমন শোনা গেছে দশ এগার মাসে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার কথা। কাজেই বেদনা আরম্ভ হলেই প্রসব করানোর চেষ্টা করা ঠিক না। অন্য কোন কারণেও হয়তো ব্যথা উঠতে পারে। এধরনের ব্যথা দুই একদিন পর আপনা আপনি কমে যায়। প্রকৃত প্রসব ব্যথার অবস্থা বুঝতে হবে। এ ব্যাপারে প্রয়োজন হলে অভিজ্ঞ ধাত্রীর পরামর্শ লওয়া যায়। প্রকৃত প্রসব ব্যথার কয়েকটি লক্ষণ উল্লেখ করা হল।
১. সন্তান প্রসবের প্রায় একমাস পূর্বে জরায়ু নিচের দিকে নেমে হেলে পড়তে থাকে এবং সন্তানের মাথা নিচের দিকে নেমে আসে। সন্তানের ভারে জরায়ু নিচে নেমে আসে। ২. গর্ভবতীর জরায়ুর মুখ খুলতে আরম্ভ করে এবং শ্বাস-প্রশ্বাস হালকা হয়ে আসে।
৩. সন্তান পেটের মধ্যে বেশি নড়াচড়া করতে থাকে এবং বাহিরের দিকে চাপ দেয় ফলে জরায়ু উপরের দিকে উঠে যেতে চায়। এই উভয় বিপরীত কাজের ফলে প্রসব ব্যথা আরম্ভ হয়ে যায়। এই সময় গর্ভবতীর ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ হতে থাকে। কোন কোন
ক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্য হয়ে যায়। আবার কাহারও ঘন ঘন পায়খানার বেগ হয়।
৪. স্ত্রীর জনেন্দ্রীয় বাহিরের দিকে অনেক পরিবর্তন হয়ে যায়। এমতাবস্থায় সন্তান প্রসাবের পথ প্রশস্ত হয়ে যায়। তখন যোনীনালী দিয়ে স্লেসার মত স্রাব নির্গত হয়। এই স্রাবের ফলে যোনীনালী পিচ্ছিল হয়ে সন্তান প্রসবের পথ উন্মুক্ত হয়।
৫. প্রসবের সময় ঘনাইয়া আসলে সন্তান বেশি মাত্রায় পেটের ভিতর নড়তে থাকে। সেজন্য গর্ভবতীর পেটের ব্যথা তীব্রতর হতে থাকে। এর ফলে প্রসূতির শরীর ফ্যাকাশে হয়ে যায়। এমন কি অনেক ক্ষেত্রে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ব্যাপার ঘটে থাকে। ইহাতে চিন্তিত হওয়ার কোন কারণ নাই সাধারণত প্রসব ব্যথা রাত্রির দিকে বেশি হয়ে থাকে। তবে দিনেও অনেকের সন্তান প্রসব হয়ে থাকে।
৬. সন্তান প্রসবের কাছাকাছি সময়ে প্রসূতির শরীর, হাত, পা মনে হয় ছেড়ে দেয় কোমরে ও পিঠে ব্যথা অনুভূত হতে থাকে।
সন্তান প্রসবের পূর্বে জরুরি কিছু কাজ করে রাখতে হয়। প্রসূতির জন্য পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন আলাদা একটি ঘরের প্রয়োজন। সেখানে যাতে পর্যাপ্ত আলো বাতাস থাকে সে দিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। নবজাতকের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহ করে রাখতে হবে। নবজাতকের শরীর ও ধাত্রীর হাত ধোয়ার জন্য ঠান্ডা এবং গরম পানির আলাদা আলাদা ব্যবস্থা রাখতে হবে। সাবান, তোয়ালে, কাঁচি, ব্লেড, বরিক পাউডার, তুলা যোগাড় করে রাখতে হবে যাতে প্রয়োজনের সময় হাতের কাছে পাওয়া যায়।
প্রসবের সময় যাতে পায়খানার বেগ না হয় তারজন্য আগেই পায়খানায় যেয়ে মলত্যাগ করতে হবে। যৌনাঙ্গের পশম পরিষ্কার করতে হবে। এন্টিসেপটিক সাবান ব্যবহার করতে হবে। প্রস্রাবের বেগ আসলে প্রসবের পূর্বেই প্রস্রাব করে নিবে। এই সমস্ত বিষয়ে পূর্ব থেকে প্রস্তুত থাকলে আর কোন অসুবিধা হয় না।
সন্তান প্রসবের সময় কি করতে হয়
গর্ভবতী স্ত্রীলোকের এসব ব্যথা আরম্ভ হলে অভিজ্ঞ একজন ধাত্রীর ব্যবস্থা করতে হবে। প্রসবের ঘরে বেশি মেয়েছেলে যাতে না থাকে সেদিকে কড়া দৃষ্টি দিতে হবে। গর্ভবতীর প্রসব ব্যথা তীব্র আকার ধারণ করলে বিছানায় শোয়াইয়া দিবে। প্রসূতি যাতে ব্যথার জন্য ভয় না পায় সেজন্য তাকে সান্ত্বনা দিতে হবে। এই অবস্থা সাধারণত নবপ্রসূতির ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। ধাত্রী এবং যে মহিলা তাকে সাহায্য করবে তাদের পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হতে হবে। তাহারা স্যাভলন মিশ্রিত পানি দ্বারা হাত ভাল করে ধুয়ে নিবে।
প্রসবব্যথা আরম্ভ হলে প্রসূতির পেটের উপর দিকে একখণ্ড কাপড় বা গামছা দিয়ে বাঁধিয়ে দিতে হয়। এতে গর্ভের সন্তান উল্টিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। অনেক সময় গর্ভের সন্তান উল্টে যেয়ে বিপদের সৃষ্টি হয়ে থাকে।
প্রথমে প্রসূতির যৌননালী দিয়ে এক ধরনের তরল পদার্থ বাহির হয়ে থাকে। উহাকে পানিডাঙ্গা বলে। পানিভাঙ্গার পরে সন্তান প্রসব হয়ে থাকে। যে সময় সন্তানের মাথা যৌনীনালী দিয়ে বাহির হতে দেখবে, সেই সময় ধাত্রী তাহার দুই আঙুলের সাহায্যে দেখবে সন্তানের গলায় নাড়ী পেঁছিয়ে আছে কিনা। যদি গলায় নাড়ী পেঁচিয়ে থাকে তবে ছাড়াইয়া নিতে হবে। প্রসব করানোর জন্য কোন তাড়াহুড়া করবে না। স্বাভাবিক নিয়মে প্রসব হওয়ার সুযোগ দিবে। যোনী নালীর মধ্যে বারবার হাত ঢুকাইবে না। সন্তান বাহির করার জন্য টানাটানি করবে না।
যৌনীনালী দিয়ে সন্তানের মাথা বাহির হলে ধাত্রী শিশুর মাথা ধরে বাম হাত দিয়ে পেটে সামান্য চাপ দিবে। সাবধান থাকতে হবে যাহাতে শিশুকে টেনে বাহির করবে না ইহাতে শিশু ও প্রসূতির জীবন বিপন্নের সমূহ সম্ভাবনা থাকতে পারে। প্রসূতির যোনীনালী ফাটিয়া পায়খানার রাস্তার সাথে মিলে যেতে পারে।
সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পরে সাথে সাথে তাহার মুখের লালা সতর্কতার সাথে বাহির করে ফেলবে। এই অবস্থায় শিশুর মাড়ার সহিত ফুল বাহির হয়ে আসে। ফুল বাহির হলে নিশুর নাড়ী কেটে ফেলতে হবে। কোন কোন প্রসূতির ফুল সাহির হতে বিলম্ব হয়ে থাকে। ফুল বাহির হতে দেরি হলে টানাটানি করে যাহির করার চেষ্টা করবেন না। যদি ফুল বাহির করার জন্য টানাটানি করার কারণে নাড়ী ছিঁড়ে যায়, তবে প্রসূতির জীবন বিপন্ন হতে পারে। কাজেই অপেক্ষা করবে, ফুল আপনা আপনি বাহির হয়ে আসবে।।
সন্তান প্রসবান্তে প্রসূতি কমপক্ষে দশ পনরো মিনিট চিৎভাবে শুয়ে থাকবে। এবং ধাত্রী এই সময় শিশুর নাড়ী কেটে ফেলসে। শিশুর নাড়ী থেকে প্রায় আট আঙ্গুল পরিমাণ বড় রেখে ভালভাবে সূতা দিয়ে বাঁধতে হবে এবং উহার পরে বাঁধনের নিচে কেটে ফেলতে হবে। ধারাল ছুরি বা ব্রেড ব্যবহার করবে। নাড়ী কাটার পর গরম পানির মধ্যে সেভলন মিশিয়ে শিশুকে গোসল করাতে হবে। তারপর শুকনা তোয়ালে দিয়ে ভাল করে শিশুর শরীর মুছে ফেলতে হবে। শিশুর মুখে একটু মধু দিবে। তারপর শিশুর ডান কানে
আযান এবং বাম কানে একামত দিতে হবে। কন্যা হলে তার বিপরীত করতে হবে। প্রসবের পর প্রসূতির কষ্ট দূর হলে শিশুকে স্তনের দুধ খেতে দিবে। কোন কোন প্রসূতির স্তনে বেশি দুধ জমে থাকে। সে ক্ষেত্রে স্তন চেপে দুধ বের করে ফেলে দিতে হয়। আবার কোন কোন প্রসূতির স্তানে দুধ জমতে দেরি হয়। তখন গাভী বা ছাগলের দুধ পান করাতে হবে।
শিশু জন্মের পর পরিচর্যা
সন্তান আল্লাহ পাকের দেয়া নেয়ামতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ নেয়ামত। কাজেই সন্তান যাই হউক পুত্র বা কন্যা তার জন্য আল্লাহ পাকের দরবারে শোকর আদায় করা উচিত। সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পরই আনেকগুলো দায়িত্ব ও কর্তব্য পিতামাতার প্রতি এসে
পড়ে। প্রথমে শিশু সন্তানের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিতে হবে। শিশুর স্বাস্থ্য ভাল থাকলে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সুবিধে হয়। শিশু যদি ভবিষ্যতের উত্তম নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠে তাতে যেমন পিতামাতার গৌরব আবার দেশেরও গৌরব। 'শিশুকে সবসময় পরিষ্কার ও শুষ্ক কাপড় দিয়ে জড়ায়ে রাখতে হবে। বিছানাটা যাতে
পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকে সে দিকে লক্ষ্য রাখিতে হবে। শিশু সন্তানকে যাতে মশা, ছারপোকায় না কামড়ায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। শিশুকে অতিরিক্ত গরম ঘরে আবদ্ধ রাখা অথবা শীতে কষ্ট দেওয়া স্বাস্থ্যহানীর কারণ হতে পারে। শিশু যখন ঘুমায়। তখন ছোট মশারী টানিয়ে দিতে হবে যাতে মাছি কোন বিরক্ত করতে না পারে।
সন্তানকে শিশুকাল হতেই তার মাতার কতকগুলি বিষয়ে অভ্যস্ত হতে হবে। যেমন সময়মত তাহাকে খাদ্য খাওয়ানো সময় মত ঘুমের ব্যবস্থা করা। পায়খানা প্রস্রাবের একটা নির্দিষ্ট সময় করে তাকে পায়খানা প্রস্রাব করাইতে হবে। ইহাতে শিশু সন্তান সময়মত মলমুত্র ত্যাগ করার অভ্যেস করতে পারে।
সন্তানের মাতাকে সবসময় দুধ পান করানোর সময় স্তনের বোটা পরিষ্কার করে নিবে কারণ অনেক সময় ময়লা বা বিষাক্ত জীবাণু লেগে থাকতে পারে। আর ঐ বিষাক্ত জীবাণু শিশুর পেটে যেয়ে পেটে অসুখ করতে পারে। সন্তানকে বেশি সময় ধরে দুধ পান করাবে না। শিশু যতক্ষণ ইচ্ছা সে মায়ের স্তন চুষতে থাকবে। এতে বেশি দুধপানের কারণে পেটের পীড়া দেখা দিতে পারে। সন্তানকে কখন কত সময় দুধপান করাতে হবে তা মায়ের নির্ধারিত করতে হবে।
সন্তান ভূমিষ্ঠ-হওয়ার পর হতে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত দিনের বেশির ভাগ সময় নিদ্রা যেয়ে থাকে। কাজেই শিশুর বিছানা-পত্র যাহাতে আরামপ্রিয় হয় সেদিকে দৃষ্টি। দিতে হবে। শিশু ঘুমানোর সময় মুখমণ্ডল ঢেকে রাখা ঠিক না। ইহাতে শিশুর শ্বাস কষ্ট হতে পারে।
সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পরে সাথে সাথে তাহার মুখের লালা সতর্কতার সাথে বাহির করে ফেলবে। এই অবস্থায় শিশুর মাড়ার সহিত ফুল বাহির হয়ে আসে। ফুল বাহির হলে নিশুর নাড়ী কেটে ফেলতে হবে। কোন কোন প্রসূতির ফুল সাহির হতে বিলম্ব হয়ে থাকে। ফুল বাহির হতে দেরি হলে টানাটানি করে যাহির করার চেষ্টা করবেন না। যদি ফুল বাহির করার জন্য টানাটানি করার কারণে নাড়ী ছিঁড়ে যায়, তবে প্রসূতির জীবন বিপন্ন হতে পারে। কাজেই অপেক্ষা করবে, ফুল আপনা আপনি বাহির হয়ে আসবে।।
সন্তান প্রসবান্তে প্রসূতি কমপক্ষে দশ পনরো মিনিট চিৎভাবে শুয়ে থাকবে। এবং ধাত্রী এই সময় শিশুর নাড়ী কেটে ফেলসে। শিশুর নাড়ী থেকে প্রায় আট আঙ্গুল পরিমাণ বড় রেখে ভালভাবে সূতা দিয়ে বাঁধতে হবে এবং উহার পরে বাঁধনের নিচে কেটে ফেলতে হবে। ধারাল ছুরি বা ব্রেড ব্যবহার করবে। নাড়ী কাটার পর গরম পানির মধ্যে সেভলন মিশিয়ে শিশুকে গোসল করাতে হবে। তারপর শুকনা তোয়ালে দিয়ে ভাল করে শিশুর শরীর মুছে ফেলতে হবে। শিশুর মুখে একটু মধু দিবে। তারপর শিশুর ডান কানে
আযান এবং বাম কানে একামত দিতে হবে। কন্যা হলে তার বিপরীত করতে হবে। প্রসবের পর প্রসূতির কষ্ট দূর হলে শিশুকে স্তনের দুধ খেতে দিবে। কোন কোন প্রসূতির স্তনে বেশি দুধ জমে থাকে। সে ক্ষেত্রে স্তন চেপে দুধ বের করে ফেলে দিতে হয়। আবার কোন কোন প্রসূতির স্তানে দুধ জমতে দেরি হয়। তখন গাভী বা ছাগলের দুধ পান করাতে হবে।
শিশু জন্মের পর পরিচর্যা
সন্তান আল্লাহ পাকের দেয়া নেয়ামতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ নেয়ামত। কাজেই সন্তান যাই হউক পুত্র বা কন্যা তার জন্য আল্লাহ পাকের দরবারে শোকর আদায় করা উচিত। সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পরই আনেকগুলো দায়িত্ব ও কর্তব্য পিতামাতার প্রতি এসে
পড়ে। প্রথমে শিশু সন্তানের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিতে হবে। শিশুর স্বাস্থ্য ভাল থাকলে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সুবিধে হয়। শিশু যদি ভবিষ্যতের উত্তম নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠে তাতে যেমন পিতামাতার গৌরব আবার দেশেরও গৌরব। 'শিশুকে সবসময় পরিষ্কার ও শুষ্ক কাপড় দিয়ে জড়ায়ে রাখতে হবে। বিছানাটা যাতে
পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকে সে দিকে লক্ষ্য রাখিতে হবে। শিশু সন্তানকে যাতে মশা, ছারপোকায় না কামড়ায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। শিশুকে অতিরিক্ত গরম ঘরে আবদ্ধ রাখা অথবা শীতে কষ্ট দেওয়া স্বাস্থ্যহানীর কারণ হতে পারে। শিশু যখন ঘুমায়। তখন ছোট মশারী টানিয়ে দিতে হবে যাতে মাছি কোন বিরক্ত করতে না পারে।
সন্তানকে শিশুকাল হতেই তার মাতার কতকগুলি বিষয়ে অভ্যস্ত হতে হবে। যেমন সময়মত তাহাকে খাদ্য খাওয়ানো সময় মত ঘুমের ব্যবস্থা করা। পায়খানা প্রস্রাবের একটা নির্দিষ্ট সময় করে তাকে পায়খানা প্রস্রাব করাইতে হবে। ইহাতে শিশু সন্তান সময়মত মলমুত্র ত্যাগ করার অভ্যেস করতে পারে।
সন্তানের মাতাকে সবসময় দুধ পান করানোর সময় স্তনের বোটা পরিষ্কার করে নিবে কারণ অনেক সময় ময়লা বা বিষাক্ত জীবাণু লেগে থাকতে পারে। আর ঐ বিষাক্ত জীবাণু শিশুর পেটে যেয়ে পেটে অসুখ করতে পারে। সন্তানকে বেশি সময় ধরে দুধ পান করাবে না। শিশু যতক্ষণ ইচ্ছা সে মায়ের স্তন চুষতে থাকবে। এতে বেশি দুধপানের কারণে পেটের পীড়া দেখা দিতে পারে। সন্তানকে কখন কত সময় দুধপান করাতে হবে তা মায়ের নির্ধারিত করতে হবে।
সন্তান ভূমিষ্ঠ-হওয়ার পর হতে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত দিনের বেশির ভাগ সময় নিদ্রা যেয়ে থাকে। কাজেই শিশুর বিছানা-পত্র যাহাতে আরামপ্রিয় হয় সেদিকে দৃষ্টি। দিতে হবে। শিশু ঘুমানোর সময় মুখমণ্ডল ঢেকে রাখা ঠিক না। ইহাতে শিশুর শ্বাস কষ্ট হতে পারে।