(toc)
বদকার নারীদের বর্ণনা: হযরত হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর হাদীসের আলোকে বদকার স্ত্রীলোকদের বর্ণনা।
১. যে স্ত্রীলোক তাহার স্বামীর স্বামীর অনুমতি ছাড়া কোন জায়গায় গমন করে। সেখান হইতে ফিরে না আশা পর্যন্ত তাহার উপর ফেরেশতাগণ অভিশাপ বর্ষণ করিতে থাকেন।
২. আল্লাহ্ তা'আলার দরবারে তিন ধরনের লোকের ইবাদত কবুল হয় না। ১. যে গোলাম তাহার মনিবের নিকট হইতে পলায়ন করেছে। ২. যে স্ত্রীলোক স্বামীর বিরুদ্ধাচারণ করেছে। ৩. যে ব্যক্তি নশায় মাতাল।
৩. যে স্ত্রীলোক কোন দুঃখ-শোকে বিলাপ করে কাঁদে সে যদি বিনা তওবায় মারা যায় তাহা হলে কিয়ামতের দিন তাহার শরীরে এক প্রকার তৈলাক্ত জিনিস মাখাইয়। উহাতে আগুন ধরাইয়া দেওয়া হইবে এবং সে ঐ আগুনে জ্বলতে পুড়তে থাকবে।
৪. যদি কোন স্ত্রীলোক তাহার স্বামীর শরীর থেকে নির্গত পুঁজও চাটিয়া খায় তাহারপরও যদি কোন কারণ বশতঃ স্বামী তাহার প্রতি নারাজ থাকে তবে আখেরাতে সেই স্ত্রীলোক দোযখে বাস করিবে।
৫. স্ত্রীলোকগণ যখন স্বামীকে কষ্ট দেয়, তখন বেহেশতে ঐ স্বামীর জন্য যে হুর নির্দিষ্ট আছে সে বলতে থাকে যে, আল্লাহ্ তা'আলা তোমাকে ধ্বংস করুক। তোমার স্বামীতো তোমার অতিথি মাত্র, সে শীঘ্রই আমার নিকট চলে আসবে।
৬. যে স্ত্রীলোক তাহার স্বামীর আর্থিক অবস্থানুসারে দেওয়া খোরাক পোষাকে সন্তুষ্ট
না থাকে তাহার উপর আল্লাহ্ তা'আলা কখনও সন্তুষ্ট হইবেন না।
৭. অন্য স্ত্রীলোকদের দেখানোর জন্য যে স্ত্রীলোক গহনা পরিবে ঐ গহনাই তাকেপ রকালে শাস্তি দিতে থাকিবে।
৮. যে স্ত্রীলোক স্বামীর ঘরের দ্রব্য চুরি করে নিজে আলাদা ভাবে তহবিল গঠন করে অথবা কোন আত্মীয়ের বাড়ী পাঠাইয়া দেয়, সত্তর হাজার ফেরেশতা সেই স্ত্রীলোকের প্রতি অভিশাপ বর্ষণ করিতে থাকে।
৯. কোন স্ত্রীলোক অন্য কোন স্ত্রীলোকের সঙ্গে এমন ভাবে মেলামেশা করিবে না, যাহাতে সে তাহার স্বামীর কাছে এরূপভাবে বর্ণনা করিতে পারে যে, তাহার স্বামী উক্ত স্ত্রীলোকটিকে দেখিতেছে।
১০. হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) নারী জাতিকে উদ্দেশ্য করে বললেন, হে নারীগণ! আমি বহু নারীকে দোযখের মধ্যে আযাব ভোগ করিতে দেখেছি। ইহার কারণ জিজ্ঞাসা করিলে, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বললেন, তোমরা খুব বেশি করে লানত বর্ষণ করে থাক। স্বামীর নাশোকরী প্রকাশ করে থাক, এবং স্বামীর দেওয়া জিনিসকে অনেক সময় উপেক্ষা ও তাছিল্যের নজরে দেখে থাক।
১১. হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন, হে মহিলাগণ! স্বামীর বিনা অনুমতিতে নফল রোযা রাখিও না এবং স্মরণ রাখিও যে, স্বামী স্ত্রীকে ডাক দিলে হাজার অসুবিধা থাকিলেও স্ত্রীকে সেই ডাকে সাড়া দিতে হইবে যদি স্বামীকে বেজার করে স্ত্রী দূরে থাকেত তাহলে যে পর্যন্ত স্ত্রী স্বামীর নিকট হইতে ক্ষমা না লইবে সে পর্যন্ত আল্লাহ্ তা'আলা তাহার কোন ইবাদত কবুল করিবেন না। ফেরেশতাগণ তাহার জন্য অভিশাপ দিতে থাকবে।
১২. একটি বিড়ালের কারণে একটি মেয়েলোকের আযাব হয়েছিল। উহাকে কিছু আহার করিতে দিত না বা ছাড়িয়াও দিত না এই অবস্থায় অনাহারে থেকে ছটফট করে বিড়ালটি মারা গিয়েছিল।
১৩. স্ত্রী যদি নিজের ভলিজা ভুনিয়া কাবাব করে স্বামীকে খাওয়ায় তাহাতেও যদি স্বামী তাহার প্রতি আসন্তুষ্ট থাকে তবে ইহুদী খ্রিস্টানদের সহিত ঐ স্ত্রীলোকের হাশর নশর হইবে।
১৪. যে স্ত্রীলোক স্বামীর নিকট হইতে তালাক লইতে চায় অথচ স্বামী তাহাতে রাজি নয়। হাশরের দিন সেই স্ত্রীলোক এমন অবস্থায় উঠিবে যে, তাহার চেহারা ও মুখমণ্ডলে শুধু হাড় থাকিবে, মাংস থাকিবে না এবং তাহার জিহবাকে পিছনের দিকে টানিয়া শান্তি দিতে নিতে দোযখের মধ্যে ফেলে দেওয়া হইবে।
স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক অধিকার:
আজকাল প্রায় শোনা যায়, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মিল মহকাত নাই, সম্ভাব নাই, মতানৈক্য ও ঝগড়া বিবাদ সব সময় লাগিয়াই থাকে। স্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বামীর অভিযোগের অন্ত নাই, স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর অভিযোগের অন্ত নাই। এমন অবস্থার সৃষ্টি হয় যে একো অপরের জীবন-মরণ সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। উভয়ের শান্তিময় জীবন অশান্তিতে ভরপুর হয়ে গেছে। যার ফলস্বরূপ অনেকের স্বপ্নের সোনার সংসার ভেঙ্গে খান খান হয়ে যায়। স্বামী-স্ত্রীর এই আবেগের দরুন শুধু যে পার্থিব ক্ষতি হইতেছে তাহাই নয়। দ্বীন ধর্ম নষ্ট হয়ে আখেরাত শূন্যের কোঠায় যেয়ে দাঁড়িয়েছে। উহার বিষময় ফল সন্তান সন্তুতির প্রতি প্রতিভাত হয়। সন্তান তাহার পিতামাতাকে ঝগড়া করিতে দেখে তাহার মনের মধ্যেও অশান্তির রেখাপাত অঙ্কিত হয়ে যায়। সন্তানের মনে তখন পিতামাতাহার প্রতি কোন আদব সম্মান থাকে না। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এই মিল-মহব্বত না থাকার কারণ কি? একের প্রতি অপরে কেন আস্থাবান হইতে পারে না। এর একমাত্র কারণ, তাহারা নিজ নিজ কর্তব্য ও দায়িত্ব পালন করে না। স্ত্রীর কে বা অধিকার কি তাহার প্রতি স্বামীর কোন ভ্রূক্ষেপ নাই। স্ত্রীর বেলায়ও তাই। প্রত্যেকে নিজ নিজ ভাবে পূর্ণ স্বাধীন এবং অপরকে পরাধীন মনে করে। স্ত্রী মনে করে স্বামী আমার গোলাম গোলামের মত কাজ-কর্ম করিবে। আমি যা বলি তাই মেনে চলবে। আর এক দিকে স্বামীর ধারণা স্ত্রীকে দাসীর মত ব্যবহার করিবে। দাসীর মত সমস্ত আদেশ মেনে চলবে।
এমন অবস্থা হলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোন দিন মিল মহব্বত থাকতে পারে না। একে অপরকে ভালবাসতে পারে না। উভয়ের মধ্যে প্রেমের আকর্ষণ থাকতে পারে না। এ সমস্ত সমস্যার সমাধান একমাত্র স্বামী-স্ত্রী প্রত্যেকে প্রত্যেকের কর্তব্যের প্রতি আন্তরিক হইতে হইবে। আল্লাহ্ তা'আলার আযাবের ভয় মনের মধ্যে রাখতে হইবে। কোরআন ও হাদীস মোতাবেক জীবন গঠন ও পরিচালনা করিতে হইবে। আল্লাহ্ তা'আলা কোরআনে স্বামী-স্ত্রীর হক নির্ধারণ করে দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত আছে-
وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِينَ عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ وَلِلرِّجَالِ عَلَيْهِنَّ دَرَجَةً وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ
উচ্চারণ : ওয়ালা হুন্না মিহুলুল্লাযীনা আলাইহিন্না বিলমা'রুফি ওয়ালিররিজালি আলাইহিন্না ওয়া রাজাতান ওয়াল্লাহু আযীযুন হাকীম।
অনুবাদঃ পুরুষদের যেমন নারীদের উপর হক আছে তেমনি নারীদেরও পুরুষদের উপর ন্যায় সঙ্গত হক রয়েছে এবং পুরুষগণের শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে নারীগণের উপর এবং আল্লাহ্ তা'আলা মহাপরাক্রমশালী বিজ্ঞানময়।হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হইতে বর্ণিতঃতিনি বলেন, উল্লেখিত আয়াতের শিক্ষা অনুযায়ী আমি নিজেকে আমার স্ত্রীর জন্য সুসজ্জিত করি যেমন সে আমার জন্য নিজেকে সুসজ্জিত করে রাখে।