(toc)
স্ত্রী-পুরুষের গোপনে দেখা-সাক্ষাৎ:
স্ত্রী-পুরুষের অবাধ মেলামেশার জন্য একটা সীমা নির্ধারণ করা আছে এবং সে সীমারেখার বাইরে স্ত্রী-পুরুষের মেলামেশা করা, কথাবার্তা বলা ও গোপন অভিসারে মিলিত হওয়া সম্পূর্ণভাবে ইসলামে নিষেধ করেছে।
মু'মিন বক্তির জন্য একটা নীতি শিক্ষা এই যে, পরপুরুষের সঙ্গে মেয়েদের গোপনে মিলিত হওয়া ও পর্দার অন্তড়াল ছাড়াই পরস্পরে কথাবার্তা বলা সম্পর্কে স্পষ্টনীতি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলিয়াছেন, যে সব মহিলার স্বামী বা নিকটাত্মীয় পুরুষ অনুপস্থিত, তাদের কাছে যাবে না। কারণ তোমাদের প্রত্যেকের দেহের প্রতিটি ধমনীতে শয়তানের প্রভাব রক্তের মত প্রবাহিত হয়।
হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) আরও বলিয়াছেন, আল্লাহ এবং পরকালের প্রতি বিশ্বাসী কোন ঈমানদার ব্যক্তিই যেন এমন মেয়েলোকের সঙ্গে গোপনে মিলিত না হয়, যার সঙ্গে তাহার আপন মুহাররম কোন পুরুষ নাই। কারণ গোপনে মিলিত এমন দুই জন স্ত্রী-পুরুষের সঙ্গে শয়তান তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে উপস্থিত থাকে। সতী সান্ধী স্ত্রী হইবার জন্য অপরিহার্য গুণ হিসেবে নবী করীম (সাঃ) বলে-ছেন, স্বামীর ঘরে তাহার অনুমতি ছাড়া কোন লোককেই প্রবেশ করিতে দিবে না। স্ত্রী তাহার স্বামীর ঘরে স্বামীর পছন্দ নয় এমন পুরুষ বা স্ত্রীলোককে প্রবেশ করার অনুমতি দিবে না। কেননা এতে করে খারাপ ধারণার সৃষ্টি হতে পারে এবং তাহার ফলে স্বামীর মনে আত্মমর্যাদাবোধ তীব্র হয়ে উঠে দাম্পত্য সম্পর্কই ছিন্ন করে দিতে পারে। স্বামীর অনুপস্থিতির সুযোগে তাহার স্ত্রীর কাছে কোন ভিন্ন পুরুষের উপস্থিতি এবং তাহার ঘরে প্রবেশ করা ইসলামি আইনে গোনাহের কাজ। ইহা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। হযরত আবু বকর (রাঃ) একদিন বইরে থেকে এসে তাঁর ঘরে তাঁর স্ত্রীর কাছে বনু হাশিম গোত্রের কিছু লোককে উপস্থিত দেখতে পান। তিনি যেয়ে নবী করীম (সাঃ)-এর কাছে বিষয়টি বলেন, এবং ইহাও বলেন যে, ভাল ছাড়া খারাপ কিছু দেখি নাই। তখন হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বললেন, খারাবী থেকে আল্লাহ্ তা'আলা তাকে মুক্ত করেছেন।
তাহারপর তিনি মিম্বরে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিলেন, আজকের দিনের পর কোন পুরুষই অপর কোন ঘরের স্ত্রীর কাছে তাহার স্বামীর অনুপস্থিতিতে কখনও প্রবেশ করবে না। যদি তাহার সঙ্গে আরও একজন অথবা দুইজন পুরুষ না থাকে। হযরত ফাতিমা (রাঃ)-এর • ঘরে প্রবেশ করার জন্য হযরত আমর ইবনে আস (রাঃ) একদিন বাইরে থেকে অনুমতি চাইলেন। তাঁকে অনুমতি দেওয়া হলে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ওখানে আলী (রাঃ) উপস্থিত আছে কি? বলা হলো না, তিনি বাড়ীতে নেই। এ কথা শুনে হযরত আমর (রাঃ) ফিরে গেলেন। পরে আবার এসে অনুমতি চাইলে হযরত আলী (রাঃ) উপস্থিত আছে কি না জিজ্ঞেস করলেন। বলা হলো তিনি ঘরে উপস্থিত আছেন। তখন হযরত আমর (রাঃ) ঘরে প্রবেশ করলেন। হযরত আলী (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, আমাকে এখানে অনুপস্থিত পেয়ে তুমি ঘরে প্রবেশ করলে না কেন? কে নিষেধ করেছিল?
তখন হযরত আমর (রাঃ) বলিলেন, যে মেয়েলোকের স্বামী উপস্থিত নাই, তাহার ঘরে প্রবেশ করিতে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) আমাদের নিষেধ করেছেন। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) আরও কঠোর ভাষায় বলিয়াছেন, যে পুরুষলোক স্বামীর অনুপস্থিতিতে কোন মেয়েলোকের শয্যায় বসিবে, আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন তাহার উপর একটি বিষধর অজগর নিযুক্ত করে দিবেন। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) আরও কঠিন ভাষা ব্যবহার করে বলেছেন, তোমরা পুরুষেরা গায়র মুহাররম মেয়েলোকের কাছে যাওয়া-আসা থেকে দূরেথাক, সাবধান থাক। হযরত হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর কাছে এক সাহাবী জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল। দেবর-ভাসুর প্রভৃতি স্বামীর নিকটাত্মীয় পুরুষদের সম্পর্কে আপনি কি নির্দেশ দেন? জবাবে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বললেন, স্বামীর এসব নিকটাত্মীয়রাই হল মুত্যুদূত।
স্বামী বা স্ত্রীর নিকটাত্মীয়দের ব্যাপারে শরীয়তে যখন এত কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তখন স্বামীর পুরুষ্ট বন্ধুদের সঙ্গে স্ত্রীর আর স্ত্রীর বান্ধবীদের সঙ্গে স্বামীর অবাধ মেলামেশা, বাড়ীতে, পার্কে, হোটেল রেস্তোঁরায় আর পথে-ঘাটে কি অফিস ক্লাবে গোপন অভিসার কিভাবে বৈধ হতে পারে। অথচ বর্তমান সমাজে তাই চলছে। বর্তমান সমাজে শ্যালকের স্ত্রী আর নিজের স্ত্রীর বোনকে অর্ধেক স্ত্রীর মত ব্যবহার করে। ভাবীর বোন আর বোনের ননদরাও এ-ব্যাপারে কম যায় না। বন্ধুর বাড়ীতে বেড়াতে গেলে যদি বন্ধুর স্ত্রী খানার টেবিলে খানা পরিবেশন না করে তবে বন্ধুত্ব অর্থহীন। শ্বশুর বাড়ীতে শ্যালকের স্ত্রী এবং নিজের স্ত্রীর ছোট বোন যদি ঠিকমত আদর যত্ন না করে, তবে মধুর হাড়ির সন্ধান পাওয়া যায় না। প্রবাদ আছে না শ্বশুর বাড়ী মধুর হাড়ি। কিন্তু এর পরিণাম হচ্ছে ভয়াবহ। নৈতিক পবিত্রতা বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বিয়ের আগেই যৌন কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জিত হচ্ছে, আর যুবক-যুবতীরা হারাচ্ছে তাদের মহামূল্যবান কুমারিত্ব।।
নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশার এ মারাত্মক পরিণতি অনিবার্য বলেই আল্লাহ্ তা'আলা চিরতরে তা হারাম করে দিয়েছেন। নারী-পুরুষকে নেগেটিভ-পজেটিভ দুই বিপরীতমুখী, বিপরীত গুণসম্পন্ন শক্তি দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে। এ দুয়ের সমন্বয়ে যদি মানবতাহার কল্যাণ লাভ করিতে হয় তাহলে অবশ্যই এক নির্দিষ্ট নিয়মে উভয়ের মিলন সম্পন্ন করিতে হবে। বর্তমানে ইউরোপ-আমেরিকার সমাজে একটি কুমারী মেয়ের সন্ধান পাওয়া দুষ্কর। যে সমাজে একজন কুমারী মেয়ে পাওয়া যায় না সেটা মানুষের সমাজ নয়, সেটা পশুর সমাজ। আল্লাহ্ তা'আলা পবিত্র কোরআনে বলেছেন।
لَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنْسَانُ فِي أَحْسَنِ تَقُولُم - ثُمَّ رَدَدْنَاهُ أَسْفَلَ
سافِلِينَ
উচ্চারণ: লাক্বাদ খালাকনাল ইনসানা ফী আহসানি তাকবীম। ছুম্মা রাদাদনাহু আসফালা সাফিলীন।
অনুবাদঃ মানুষকে অতি উত্তম মানদণ্ডে সৃষ্টি করেছি বটে; কিন্তু তাহারপর তাদের অমানবিক কার্যকলাপের দরুনই তাদের নামিয়ে দেওয়া হয়েছে চরমতম নিম্নস্তরে।
মেয়েদের পর্দাসহকারে ঘরের বাহিরে যাওয়া:
মেয়েদের শুধু ঘরের ভিতরেই বসে থাকতে হবে সব সময়, নিতান্ত দরকারে ঘর হতে বাহিরে যাবে না এমন কথা আল্লাহ্ তা'আলা বলেননি বরং হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ও বলেননি। সাহাবী তাবেয়ীন ও পরবর্তীকালের মুসতাহিদীগণও সে মত প্রকাশ করেননি। তাঁরা সবাই কোরআন থেকে একথাই বুঝেছেন যে, মেয়েদের ঘর থেকে বাইরে যাওয়া নিষেধ নাই। তবে নিষেধ হলো বাইরে যেয়ে তাদের পর্দা নষ্ট করা, রূপ-সৌন্দর্য প্রকাশ করা এবং পুরুষদের মনের যৌন শক্তি ক্ষিপ্ত করে তোলা। ইহা না হলে তাদের বাইরে যেতে কোন দোষ নাই। তবে বিনা প্রয়োজনে বাইরে যেতে পারবে না। শুধু ঘুরেফিরে হাওয়া খেয়ে গল্প-গুজব করে বেড়ানোর উদ্দেশ্যে বাহির হওয়া যাবে না।
জরুরি প্রয়োজনে মেয়েদের ঘর হতে বাহির হতে হলে, সর্বপ্রথম কাজ হল তাহার সমস্ত শরীর পূর্ণমাত্রায় আবৃত করা। কোরআনে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন-
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ وَيُنْتِكَ وَنِسَاء الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ ذَلِكَ أَدْنَى أَنْ تُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ وَكَانَ
اللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا
উচ্চারণঃ ইয়া আইয়্যুহান্নাবিয়্যু কুললি আযওয়াজিকা ওয়া বানাতিকা ওয়া নিসায়িল মুমিনীনা ইউদনীনা আলাইহিন্না মিন জালাবি 'বিহিন্না যালিকা আদনা আইয়্যুরাফনা ফালা ইউযাইনা ওয়া কানাল্লাহু গাফুরার রাহীমা।।
অনুবাদঃ হে নবী। তোমার স্ত্রীদের, কন্যাদের ও মুসলিম মেয়েলোকদের বল, তাহারা যেন সবাই ঘরের বাহিরে বের হবার সময় তাহাদের মাথার উপর তহ্যাদের চাদর ঝুলিয়ে দেয়। এভাবে বের হলে তাদের চিনে নেওয়া সহজ হবে। ফলে তাদের কেউ জ্বালাতন করবে না। আল্লাহ প্রকৃত বড় ক্ষমীশীল, দয়াবান। (সূরা আহযাব আয়াত ৫৯)
এখানে জিলবাব বলতে যে কাপড় দিয়ে সমস্ত শরীর ঢাকা হয় তাকে বুঝায়। আবার অনেকে বলেন, জিলবাব হল, কোর্তা ও ওড়না, যা দিয়ে শরীর, মাথা আবৃত করা যায়। আবার কেউ বলেন, ওড়নার উপরে যে চাদর পড়া হয় তাকে জিলবাব বলে। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, যে কাপড় দিয়ে উপর থেকে নিচের দিকে পরে সমস্ত শরীর আবৃত করা হয়, তাই জিলবাব। ইবনে জুবাইর বলেছেন, জিলবাব অর্থ বোরকা। মুফাসসিরদের মতে মেয়েরা পরিধেয় কাপড়ের উপর যা পরিধান করে তাই জিলবাব। এক কথায় বর্তমান সময়ের বোরকা। বোরকা পরিধান করলে মেয়েদের সমস্ত শরীর আবৃত হয়ে যায়। কাজেই বোরকাকেই বর্তমানে জিলবাব হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। মেয়েলোক যখন ঘরের বাহিরে যাবে তখন তাদের মুখমণ্ডল ও মাথা আবৃত করে নিতে হবে। মেয়েরা তাদের মুখমণ্ডলকে এমনভাবে ঢাকবে যে, বাম চোখ ছাড়া তাদের শরীরের অপর কোন অংশ দেখা যাবে না। মেয়েরা অপর পুরুষের সামনে তাদের অলংকার প্রকাশ করিতে পারবে না। তবে যা আপনা থেকে প্রকাশ হয়ে পড়ে, তা প্রকাশ হতে নিষেধ নাই। সবসময় বুকের উপর ওড়না বা দোপাট্টা ফেলে রাখবে।। মেয়েদের জিনাত বা সৌন্দর্য দুই রকমের। একটি হইলো সৃষ্টিগত আর একটি হইল
উপার্জনগত। সৃষ্টিগত সৌন্দর্য সাধারণত মুখমণ্ডল, চেহারা। কারণ তাই হচ্ছে সম্পূর্ণ রূপ ও সৃষ্টিগত সৌন্দর্যের মূল উৎস কেন্দ্র। নারী জীবনের মাহাত্ম্য এখানে নিহিত। আর দ্বিতীয় পর্যায়ের সৌন্দর্য হল যেমনঃ কাপড়-চোপর, অলংকারাদি, চোখের সুরমা, হাতের মেহেদী, রং, খেজাব ইত্যাদি। এই দুই ধরনের সৌন্দর্যকেই বাইরের লোকের নিকট প্রকাশ করিতে নিষেধ করা হয়েছে।
নারীর সমস্ত শরীর হল গোপন রাখার জিনিস। এ কারণে নারী যখন ঘরের বাহিরে যায় তখন শয়তান তাহার সংগী হয়ে পিছু লয়। কিন্তু নিতান্ত প্রয়োজনের সময় এ নিয়ম প্রযোজ্য নয়।
কোন যুবতী নারীর এমন কোন পুরুষ নাই যে তাহার হাট-বাজারের প্রয়োজন পূরণ করে দিবে। জরুরি জিনিস এনে দিতে পারে। তখন সে বোরকা পরে শুধু পথ দেখার কাজ চলে চোখের জায়গায় এমন ফাঁক রেখে ঘরের বাইরে যাবে এবং প্রয়োজনীয়
স্বামী-স্ত্রীর মধুর মিলন ও সুখময় দাম্পত্য জীবন
জায়গায় যেয়ে প্রয়োজনীয় জিনিস সংগ্রহ করে ঘরে ফিরে আসবে। যদি তাহার বোরকা না থাকে এবং যোগার করার মতো সমর্থও না থাকে, তাহলে সে যে কোন একখানা কাপড় দিয়ে মাথা থেকে পা পর্যন্ত আবৃত করে বের হবে। এ ছাড়াও দুটো ক্ষেত্র আছে, যখন অপর পুরুষের সামনে মুখমণ্ডল কিংবা দেহের
কোন না কোন অংশ প্রকাশ করিতে হয়। যেমনঃচিকিৎসকের সামনে অথব্য আদালতে উপস্থিত হয়ে বিচারকের সামনে দাঁড়িয়ে কোন বিষয়ে জবানবন্দী বা সাক্ষী দেয়ার সময়ে তখন মুখমণ্ডল উন্মুক্ত করা জায়েয। যৌবনা নারীদের সম্পর্কে আল্লাহ্ তা'আলা কোরআনে
وَالْقَوَاعِدَ مِنَ النِّسَاءِ الَّتِي لَا يَرْجُونَ نِكَاحًا فَلَيْسَ عَلَيْهِنَّ مجناح أَنْ تَضَعْنَ شَبَابِهُنَّ غَيْرَ مُتَرَجَاتٌ بِزِيَّنَةٍ وَإِنْ يُسْتَعْفِفْنَ
خيْرٌ لَهُنَّ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ
উচ্চারণ: ওয়াল কাওয়ায়িদু মিনাল নিসায়িল্লাতি লাইয়ারজুনা নিকাহান ফালায়সা আলাইহিন্না জুনাহন আইয়ি্যুদা'না শিয়াবাহুল্লা গাইরা মুতাবাররিজাতি বিধিনাতিন। ওয়া ইন আই ইয়াসতা'ফাযানা খায়রুল্লাহুল্লা। ওয়াল্লাহ সামীয়ুন আলীম।
অনুবাদঃ যে সকল মেয়েলোক ঋতুস্রাব ও সন্তান প্রসব থেকে চূড়ান্ত অবসর গ্রহণ করিয়াছে, যাহারা বিয়ের বা স্বামী সহবাসের কোন আশা পোষণ করে না, তাহাদের দেহাবরণ পরিত্যাগ করলে তাতে কোন গুনাহ হবে না। তবে সে অবস্থায়ও তাহাদের সৌন্দর্য আর অলংকার প্রদর্শন করে বেড়ানো চলবে না। আর তাহারা যদি তা থেকেও পবিত্রতা অবলম্বন করে ও তা পরিহার না করে, তবে তা তাহাদের পক্ষে কল্যাণকর, মঙ্গলজনক। আর আল্লাহ সব কিছু শোনেন, সব কিছু জানেন।
সেই সব বৃদ্ধদের কথা এখানে বলা হইয়াছে, যাহাদের দেখিতে পুরুষেরা ঘৃণা বোধ করে তাহাদের জন্যে এই হুকুম। যাদের রূপ-সৌন্দর্য অধিক বয়স হওয়া সত্ত্বেও অবশিষ্ট রয়েছে তাহাদের জন্য এ আয়াত প্রযোজ্য নয়।
পর্দার আয়াত নাযিল হবার ব্যাপারে একটি ঘটনা আছে। একবার হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) খাবার খাইতেছেন। তাঁহার সঙ্গে কিছু সংখ্যক সাহাবীও শরীক ছিল। হযরত আয়েশা (রাঃ) ও তাঁহাদের সঙ্গে বসে খাইতেছিলেন। হঠাৎ এক সাহাবীর হাত হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর হাতে লেগে যায় এবং হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর কাছে ব্যাপারটা খুবই খারাপ মনে হইলো। এরপরই পর্দার আয়াত নাযিল হয়।
পর্দার এই নির্দেশ মেয়েলোক ও পুরুষলোকের মাঝে এক স্থায়ী অন্তড়াল সৃষ্টি করেছে। এ অন্তড়াল ভাঙ্গতে পারা যায় প্রথমে মুহাররাম সম্পর্কের দ্বারা আর দ্বিতীয় হইলো বিয়ের দ্বারা। এ ছাড়া এই অন্তড়ালে অন্য কোনভাবে ভঙ্গ করা ইসলামি শরীয়তে সম্পূর্ণ নিষেধ। পর্দার আয়াত নাযিল হইবার সঙ্গে সঙ্গে দেখা গেল, আরবের অবাধ নীতিতে অভ্যস্ত মেয়েরা ঘর হইতে বের হইতে তাহাদের মাথার উপর কালো চাদর ফেলে তা দিয়ে সমস্ত মাথা, মুখমন্ডল ও সমগ্র শরীর পূর্ণমাত্রায় ঢেকে চলা শুরু করেছে। নারীসমাজে এক বিপ্লবের প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা গেল। উলংগ, অর্ধ উলংগ আর রূপ-যৌবন প্রকাশকারী পোষাক সাধরণভাবে বাতিল হয়ে গেল। আর কোন মেয়েই ঐ ধরনের পোষাক পরে ঘরের বাইরে যায় না। তখনকার সময়ে মেয়েদের আদত ছিল একটা বড় আকারের চাদর দিয়ে মাথা, মুখমণ্ডল ও সমস্ত চেহারা আবৃত করা। এই ৮৩ চাদরই পর্যায়ক্রমে পরবর্তীস্তরে এসে বোরকার রূপ ধারণ করে। কাজেই কোরআনের নির্দেশ অনুসারে এমন মুসলমান মেয়েদেরকে বোরকা পরে ঘর থেকে বাহির হইতে হইবে। সে সমস্ত মেয়ে সমস্ত শরীর বোরকা দিয়ে ঢেকে বাড়ীর বাহির হয়, তাহাদের কে দেখলেই বুঝা যায় পর্দানশীন মহিলা। দুষ্ট চরিত্রের বখাটে লোকেরা তাহাদেরকে চরিত্রবতী ও সতীত্ব-সম্পন্না মেয়ে মনে করে তাহাদেরকে বিরক্ত করে না।
কিন্তু যারা উলংগ, অর্ধ উলংগ হয়ে বোরকা ছাড়াই রাস্তায় চলাফেরা করে এবং মাথা, বুক, গলা, বাহুযুগল উন্মুক্ত রাখে তাহাদের সম্পর্কে দুষ্ট লোকদের মনে খারাপ ধারণা জাগ্রত হইবে। তাহারা এগিয়ে যেয়ে তাহাদের সঙ্গে আলাপ-পরিচয় করিবে, তাহাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করিতে চেষ্টা করিবে। কারণ মহিলাদের ঐ অবস্থায় রাস্তায় বাহির হইবার অর্থই হল তাহারা অপর পুরুষের কাছে ধরা দিতে প্রস্তুত। কোন পুরুষ যদি তাহাদেরকে পেতে চায় তবে তাহানা বিন্দুমাত্র আপত্তি করিবে না। এই ধরনের চলাফেরা করার মেয়েদের মধ্যে শতকরা ৯০ জনের অবস্থা যে এমনি তা কেহ অস্বীকার করিতে পারবে না।
পূর্বেকার যুগের জাহেলিয়াত বর্তমান সমাজে দেখা যায়। পূর্বের জাহেলিয়াত আর বর্তমান সময়ের অবস্থার মধ্যে কোন পার্থক্য নাই। জাহেলিয়াতের সে যুগে আর বর্তমান যুগে যেমন কোন পার্থক্য নেই। ইসলামের মধ্যেই সে যুগ আর এ যুগে কোন পার্থক্য নেই। বর্তমান ঘুণেধরা সমাজ বুঝতে পারে না যে, তাহারা আধুনিকতাহার নামে কি করছে। মানবতাহার কত ক্ষতি করছে। বর্তমান সমাজের লোকেরা ইসলামি সভ্যতাকে চিরতরে বিলীন করে দেওয়ার চেষ্টা করছে।